April 19, 2026, 11:35 pm

বন্দরে সরকারি খাল দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

বন্দর প্রতিনিধি : বন্দরে সরকারি খাল দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একরামপুর সিএসডি এলাকার জিল্লুর গংদের বিরুদ্ধে। দখলকৃত সে জায়গায় পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত আসমা বেগম দাবি করেন, ওই জমিটি সরকারী খাল নয়, বরং তাদের নিজস্ব জায়গা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডস্থ একরামপুর সিএসডি সরকারি খাল দখল করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন স্থানীয় একরামপুর এলাকার জিল্লুর রহমানের বোন আসমা বেগম। এরই মধ্যে খালের অংশ দখল করে বাড়ি নির্মাণ করছেন।

এ বিষয়ে জিল্লুর রহমান এর ভাই পারভেজ দাবি করে বলেন, এটি সরকারি খাল নয়, তাদের নিজস্ব জমি। এই জায়গা নিয়ে ২১বছর যাবৎ মামলা চলছিল। দীর্ঘ ২১ বছর পর আদালত আমাদের জায়গা লিখে দিয়ে দখল বুঝিয়ে দিয়েছে। এখানে তিন বোনের ওয়ারিশের জায়গা তাদেরকে আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। সেখানেই তিনি পাকা ঘর নির্মাণ করছে। এখানে যদি সরকারি খালের জায়গা নেই এটি আমাদের জায়গা। এখানে অনেকেই জায়গা দখল করে রেখেছে, এগুলোর বিষয় তো কিছু হয়না। যদি সরকারি জায়গা হয়ে থাকে সরকার যখন চাইবে জায়গা দিয়ে দিবো। তাছাড়া পানি চলাচলের ব্যবস্থা তোর আছেই। এখানে কোনো সরকারি জায়গা নেই।

পাকা ঘর নির্মাণকারী আসমা বেগম জানান, এটি আমাদের জায়গা, আমাদের জায়গাই আমরা বাড়ি করছি। যদি সরকার মনে করে এই জায়গা তাদের লাগবে আমরা ছেড়ে দিবো।

তবে স্থানীয় লোকজন বলছে, এটি সরকারি খাল। এক সময় প্রবাহমানও ছিল। তবে অব্যাহত দখল ও দূষণে খালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

স্থানীয় জানান, এই খাল দিয়ে নৌকা চলতো। অনেক জেলে এ খাল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। এখন আর দেখে বুঝার উপায় নেই এখান দিয়ে খাল প্রবাহিত হয়েছিল। বর্তমানে দখলদাররা রাতারাতি পাকা ভবন, দোকানঘর নিমার্ণ করে খালের অংশ দখল করে রেখেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফিজুর রহমান জানান, লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা